রংপুরের কারমাইন কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মো. রাহিমুল কবির আজ দেশের একজন সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার গড়া প্রতিষ্ঠান ‘রিংলাভা এগ্রো’ এখন শুধু একটি কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ নয়, বরং এক নতুন ভাবনার নাম-যার শিকড় গাঁথ্য কৃষির প্রতি ভালোবাসায় আর শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
রিহলাতা এমোর যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সময়। সেই দুর্বিষহ সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দি, তখন ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকেই রাহিমুল কবির টুকটাক আম নিয়ে লেখালেখি করতেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় একটি বড় স্বপ্নের বীজ। মানুষের আগ্রহ ও সাড়া তাকে অনুপ্রাণিত করে এবং ২০২৩ সালে ‘রিমলাতা এগ্রো’ নামে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে অনলাইন-ভিত্তিক থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই সেবাদান করছে।
কৃষিভিত্তিক এই উদ্যোগের পেছনে মূল প্রেরণ্য ছিল তার শৈশবের অভিজ্ঞতা। কবির বলেন, ‘ছাটবেলা থেকেই দেখে এসেছি বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কৃষিতে সম্পৃক্ততা। কৃষকের পরিশ্রম আর মাটির প্রাণে আমার ভেতরে জন্ম নিয়েছিল এক অদ্ভুত ভালোবাসা।’ মূলত সেই ভালোবাসা থেকেই গড়ে ওঠে আজকের এই রিহলাতা। বর্তমানে বিহলাতা মূলত দেশীয় ফল- বিশেষ করে আম নিয়ে কাজ করছে। নিজেদের বাগানে উৎপাদিত আম তারা করপোরেট ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আগ্রো-ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। রিহলায়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো- আমকে একটি গিফট আইটেমে রূপান্তর করা। বর্তমান সময়ে যখন স্বাস্থ্যসম্মত, সুন্দরভাবে প্যাকেজ করা আম উপহার হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
রিহন্যাতা এখনো শুধু নিজেদের বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছে। তবে চলতি বছর থেকেই সীমিত পরিসরে বাইরের জেলার কৃষকদের আম সংগ্রহের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে-ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুণগত মানসম্পন্ন ফলকে রিহলাতার ব্যানারে একত্রিত করা এবং কৃষক ও চেতার মাঝে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এই টিমের পেছনে যারা কাজ করছেন, তাদের অবদানও অনস্বীকার্য। রিহলাতা এগ্রোর কনটেন্ট টিম লিডার শাহ সুমাইয়া আফরিন সিমী বলেন, ‘কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এই টিমকে লিড করছি। আমি স্বপ্ন দেখি, ফলভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফলের নানান দিক সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব।’ তার নেতৃত্বে রিহস্যতার কনটেন্ট ও ব্র্যান্ডিং আরও সুসংগঠিত রূপ পাচ্ছে।
অবশ্য এই যাত্রাপথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। ডেলিভারি ও প্যাকেজিং। ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়াও নিরাপদ ফল উৎপাদন নিশ্চিত করাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে সামনে আসে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিহলাতা নির্ধারিত নিয়মে বাগানে রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে, ফল সংগ্রহের আগের ও পরের ধাপগুল্যে গুরুত্বের সঙ্গে পাদান করে। ডেলিভারি সমস্যা দূর করতে তারা টিডযাই, সুন্দরবনসহ অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করছে এবং ৫ কেজির প্রিমিয়াম গিফট বক্স ও ১০-২০ কেজির উন্নত ক্যারেটের মাধ্যমে প্যাকেজিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে।
কৃষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে রিহলাতা এগ্রো ধীরে ধীরে তাদের বিনিয়োগকৃত বাগানের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। নতুন কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে যুক্ত করছে উৎপাদন চক্রে। এমনকি রিহলাতার উৎপাদিত আম কিছু নামকরা র্যান্ডের মাধ্যমেও বাজারজাত করার পরিকল্পনা চলছে।
এই পুরো যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ব্যক্তিগত স্মৃতিও। ‘রিয়লাভা’ নামটির পেছনে রয়েছে এক প্রিয় মানুষের অনুপ্রেরণা। সেই মানুষটির দেওয়া নাম এখন কবিয়ের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। ‘এই নামটি শুধু একটি শব্দ নয়, এটি আমার ভেতরের আবেগ, স্মৃতি আর সাহসের উৎস’, বলেন কবির।
ভবিষ্যৎ নিয়ে রাহিদুল করিরের যগ্ন অনেক বড়। তিনি চান, আগামী তিন বছরের মধ্যে রিহল্যতা এগ্রোর কার্যক্রম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ক। মের পাশাপাশি বছরজুড়ে দেশীয় বিভিন্ন ফল নিয়েও কাজ করতে চান তিনি। দেশীয় ফলকে কেন্দ্র করে তৈরি করতে চান দেশের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান।
লেখক: শিক্ষার্থী,
জাতীয় কবি কাজী নাচরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়



